প্রতিদিনের অর্থনীতি রিপোর্ট | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
দেশে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নজরদারি জোরদারের ফলে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন (এসটিআর/এসএআর) জমা দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা পড়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রতিবেদনই এসেছে ব্যাংকিং খাত থেকে।
বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত বিএফআইইউর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে জমা পড়া মোট প্রতিবেদনের মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রমের প্রতিবেদন (এসএআর)।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএফআইইউতে মোট ১৭ হাজার ৩৪৫টি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩০ হাজারের ঘর অতিক্রম করেছে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরের মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি প্রতিবেদনের তুলনায় চার বছরে এ সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে।
বিএফআইইউ বলছে, প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আইনগত বাধ্যবাধকতা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা।
এছাড়া অনলাইন জুয়া ও বাজি, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার অবৈধ লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় এসব খাতে নজরদারিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য রিপোর্টিং সংস্থার জন্য সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম শনাক্ত হলে তা দ্রুত বিএফআইইউতে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন দাখিলে ব্যাংকিং খাতের আধিপত্য আরও বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট প্রতিবেদনের ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে রেকর্ড ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
সবশেষ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯৯১টি। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংক খাতের প্রতিবেদন প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ হাজার ৮০৯টি প্রতিবেদনের তুলনায় এটি দ্বিগুণেরও বেশি।
বিএফআইইউর মতে, ব্যাংকগুলোতে উন্নত লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং ঝুঁকিভিত্তিক কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম শক্তিশালী হওয়ায় সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও রিপোর্টিং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদন ১২১টি থেকে বেড়ে ২৫০টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে অর্থ প্রেরণকারী (মানি ট্রান্সফার) প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদন ৯০০টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫টিতে উন্নীত হয়েছে। তবে মোট প্রতিবেদনের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবদান মাত্র ১ শতাংশ এবং অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানের অংশ ৪ শতাংশ।
Posted ৪:৪১ পিএম | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity