নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী ৪৬১টি কেন্দ্রে এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরিবহন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ এবং সার্বিক তদারকিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রসচিব, পরিদর্শক, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ থেকে শুরু করে কক্ষ তদারকি ও সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি থাকবে।
এদিকে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র জমা ও সংরক্ষণেও নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে ওই দিনের উত্তরপত্র একই দিন নিরাপত্তার সঙ্গে বোর্ডে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পুলিশ প্রহরায় হাতে হাতে উত্তরপত্র জমা দেবেন।
কোনো কারণে একই দিন বোর্ডে পৌঁছানো সম্ভব না হলে ডাকযোগে বা রেলওয়ে পার্সেলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। সেটিও সম্ভব না হলে উত্তরপত্র সিলগালা করে ট্রেজারি বা থানার মালখানায় সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশ পাহারায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অন্য কোনো উপায়ে উত্তরপত্র পাঠানো যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষায় নকলের ধরন বদলেছে। তাই আইনও সময়োপযোগী করা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্রে নকলের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
Posted ২:২৮ পিএম | মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity