
| সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 375 বার পঠিত

নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে কোনো বড় ধরনের আতঙ্ক বা চাপ তৈরি হয়নি। বরং প্রথম দুই দিনে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা উত্তোলনের বিপরীতে নতুন আমানত জমা পড়েছে, যা ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও নুরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে সাধারণত দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। তবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই লেটার অব ইনটেন্ট ইস্যু, মূলধন সংগ্রহ, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লেনদেন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। নতুনভাবে প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ইতোমধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে এবং সেই নির্দেশনার আলোকে আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার এবং একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করা হবে।
দুই দিনের লেনদেনের চিত্র তুলে ধরে গভর্নর জানান, ১ ও ৪ জানুয়ারি মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলন লেনদেন হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক প্রায় ৬৬ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।
গভর্নর আরও বলেন, সামনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থা যাচাইয়ে ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ব্যাংকের কর্মকর্তা নয়, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কেউ জড়িত থাকলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফরেনসিক অডিট রিপোর্ট পাওয়ার পর অর্থ কোথায় গেছে, কোন হিসাবে গেছে এবং কারা সুবিধাভোগী সবকিছু স্পষ্ট হবে।
তবে গভর্নর স্পষ্ট করে বলেন, কাউকে অযথা ছাঁটাই করার পরিকল্পনা নেই। সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। তবে কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মুনাফার হার প্রসঙ্গে তিনি জানান, শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একীভূত করে গ্রাহকদের জন্য নতুন শরিয়াহসম্মত পণ্য চালু করা হবে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ব্যাংক খাতে সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে কঠোর নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে। এরপর ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট অ্যাসেট ভ্যালু নির্ধারণ করা হবে।

Posted ৬:৫৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


