
| মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 762 বার পঠিত

রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে অনলাইনে রপ্তানি ডকুমেন্ট জমা ও প্রক্রিয়াকরণের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত নানা কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যাবে, যা ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমা ও প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রপ্তানি কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং দেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে রপ্তানি প্রক্রিয়াকে সমন্বয় করা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন (ইউআরসি) এবং এর ইলেকট্রনিক প্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত সম্পূরক ই-ইউআরসি অনুসরণ করে নিরাপদ ব্যাংক-টু-ব্যাংক ইলেকট্রনিক চ্যানেলের মাধ্যমে রপ্তানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। এ সুবিধা ডকুমেন্ট এগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্ট এগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ)—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়াকরণ স্থানীয় ও বিদেশি ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ডকুমেন্টের ফরম্যাট, উপস্থাপনের স্থানসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি বিক্রয় চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে ডকুমেন্টারি কালেকশন ই-ইউআরসি’র আওতায় ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, যেখানে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য, সেখানে সব রপ্তানি ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে। তবে এসব রেকর্ড আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য না হলে টাইটেল ও হস্তান্তরযোগ্য ডকুমেন্ট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাঠাতে হবে, যদিও অন্যান্য নথি ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো যাবে। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো প্রত্যয়ন করা ইলেকট্রনিক কপিও সরবরাহ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকৃত ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর, ডিজিটাল সাউন্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট সার্টিফিকেট অথবা সুইফট বার্তার মাধ্যমে টাইটেল ডকুমেন্টের ডিজিটাল অ্যান্ডোর্সমেন্টের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ ডাটা ট্রান্সমিশন, সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরের যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।
এডি ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমিক ও ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। পাইলট কার্যক্রম শুরু করলে বাংলাদেশ ব্যাংককে তা অবহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

Posted ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


