
| বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 402 বার পঠিত

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা ও রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের পাশাপাশি দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে। এ সুবিধার জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে চলমান সামরিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাতের কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নগদ প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই বিশেষ পুনঃতফসিল নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব ঋণ শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো পুনঃতফসিল করতে মোট ঋণের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ ১ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদনকালে এবং অবশিষ্ট ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের জারি করা সার্কুলারের আওতায় যেসব ঋণ ইতোমধ্যে পুনঃতফসিল করা হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে পুনর্গঠন করতে চাইলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে সর্বোচ্চ আরও দুই বছর সময় বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের ওপর আরোপিত সুদ মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আগের বকেয়া সুদ একটি পৃথক ব্লকড হিসাবে সংরক্ষিত থাকবে এবং গ্রেস পিরিয়ড শেষে সেই অর্থ সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। তবে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ পুনরায় নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা পরিচালনা ও রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নতুন ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে জালিয়াতি, প্রতারণা কিংবা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনার কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই শিল্পকে সচল রাখার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের ঋণ আদায় প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করতেই এ বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা চালু করা হয়েছে।

Posted ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


