প্রতিদিনের অর্থনীতি | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে শূন্যতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতা—সব মিলিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এতে শুধু সংস্থার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমই নয়, পুরো বীমা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধান চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দ্রুত চেয়ারম্যান নিয়োগ বা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে এতে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। সোমবার (৬ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে আইডিআরএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তবে দীর্ঘ এক মাস পার হলেও এখনো নতুন চেয়ারম্যান বা ভারপ্রাপ্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে সংস্থাটিতে চারজন সদস্য থাকলেও তাদের কাউকেই দায়িত্ব না দেওয়ায় কার্যত পুরো প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের পরিস্থিতি সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার ও জীবনধারণের অধিকারের পরিপন্থী।
এতে আরও বলা হয়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০ অনুযায়ী সংস্থাটির কার্যক্রম সচল রাখা বাধ্যতামূলক হলেও শীর্ষ পদ শূন্য রেখে আইনি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে।
আইডিআরএ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বীমা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম—যেমন লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও বিরোধ নিষ্পত্তি—পুরোপুরি থমকে আছে। এর ফলে পলিসিধারীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ অথবা বর্তমান সদস্যদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দীর্ঘদিন নেতৃত্বহীন থাকা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো বীমা খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। এতে পলিসিধারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
Posted ৭:২৩ এএম | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity