প্রতিদিনের অর্থনীতি | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
পুঁজিবাজারে অস্থিরতা এড়াতে মার্জিন রুলস ২০২৫ বাস্তবায়নের সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংস্থাটি বলছে, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির ঘাটতি ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়সীমা যথেষ্ট নয়।
মার্জিন রুলস ২০২৫ বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে ডিবিএ। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এ আবেদন জমা দেওয়া হয়, যা রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
ডিবিএ জানায়, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া মার্জিন রুলস ২০২৫ পুঁজিবাজারে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত ছয় মাসের সময় (৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংস্থাটি বলছে, বোর্ড অনুমোদিত কনজারভেটিভ মার্জিন ঋণ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এতে অভ্যন্তরীণ পরামর্শ, ঝুঁকি বিশ্লেষণ, বোর্ডের অনুমোদন এবং অপারেশনাল সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তির মতো ধাপ রয়েছে, যা অনেক ব্রোকারেজ হাউজে এখনও চলমান। পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া, আরবিসিএ ২০১৯-এর সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য আনতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন, জনবল প্রশিক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সম্পন্ন করাও বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে এসব বিধান কার্যকর করলে অপারেশনাল ত্রুটি বা মার্জিন সেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যমান মার্জিন ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে নন-মার্জিনেবল সিকিউরিটিজ সমন্বয় করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ডিবিএ। সংস্থাটির মতে, বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারীর হিসাব এ ধরনের সিকিউরিটিজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক বিক্রয়ের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে বাজারে অস্থিরতা বাড়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন এবং তারল্য সংকটও তৈরি হতে পারে।
ডিবিএ আরও উল্লেখ করেছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে, যা নতুন বিধান বাস্তবায়নকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এ অবস্থায় সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়িয়ে মোট নয় মাস, অর্থাৎ ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। এতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি মসৃণ ও ঝুঁকিমুক্ত রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারবে বলে মনে করছে তারা।
এ বিষয়ে কমিশনের সদয় বিবেচনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেছেন ডিবিএ নেতারা।
Posted ২:৪১ এএম | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity