নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
দেশে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তির দিকে মোড় নিয়েছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। বুধবার (৬ মে) এ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। মার্চে সাময়িকভাবে কমলেও এপ্রিলেই আবার তা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্যের দামে।
বিবিএসের হিসাবে, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গত দুই সপ্তাহে শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যদিও চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে, আয় বৃদ্ধির গতি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এপ্রিল মাসে জাতীয় গড় মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে প্রকৃত আয় কমে গিয়ে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। এতে অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন ব্যয় সংকোচন, সঞ্চয় ভাঙানো কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে হয়।
তারা আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে—এটাই বোঝায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
Posted ৭:৫৯ পিএম | বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity