চামড়া শিল্পের ১০-১২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১৭ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট

চামড়া শিল্পের ১০-১২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার
Share

দেশের চামড়া শিল্পে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে এ সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা, পরিবেশগত মানদণ্ড ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা গেলে চামড়া খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের খাতে পরিণত হতে পারে।

রোববার (১৭ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্সের নবম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে নানা কারণে সেই সম্ভাবনার বড় অংশ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পরিবেশগতভাবে প্রয়োজনীয় হলেও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে সেটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে হাজারীবাগের অনেক কারখানাই সাভারে স্থানান্তরিত হয়নি এবং শিল্পখাতটি প্রত্যাশিত গতি পায়নি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া এখনও কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছে না, যার অন্যতম কারণ কমপ্লায়েন্সের ঘাটতি। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত চামড়ার মাত্র শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ রপ্তানি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রপ্তানি অন্তত ২০ গুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে পরিবেশগত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ ছাড়া বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাভারের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সম্পূর্ণ কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে এবং প্রয়োজনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সিইটিপির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিক তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের রিটার্ন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তার ভাষায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় অবকাঠামো খাতে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের তুলনায় ট্যানারি শিল্পে তুলনামূলক কম বিনিয়োগেই ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এই খাতে ৫০০ থেকে ১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, বিদেশি বিশেষ করে ইউরোপীয় ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশি চামড়া শিল্প নিয়ে পরিবেশগত কিছু নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বনভূমি দখল করে ট্যানারি গড়ে তোলার ধারণা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ অবস্থায় সরকারি পরিবেশ ছাড়পত্র ও কারখানার কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি রিসাইকেল খাতে প্রণোদনা দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর চামড়া শিল্প বাংলাদেশের জন্য অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে, যাতে সম্ভাবনাময় এই খাত হাতছাড়া না হয়।

 

/জেবি
Facebook Comments Box
Share
advertisement

Posted ১:৩০ পিএম | রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com