নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটি) সংশ্লিষ্ট কয়েক দশকের আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর পরিত্যক্ত সম্পদ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগে উত্থাপিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর সম্প্রতি কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শনিবার (২৩ মে) দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই চলছে। প্রাপ্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর করাচিভিত্তিক পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি (পিটিসি) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির বড় দুটি কারখানা স্থাপন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে এসব সম্পদ পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা ছিল। একই সময়ে করাচিভিত্তিক মূল কোম্পানি ক্ষতিপূরণ সুবিধাও গ্রহণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তৎকালীন প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ওই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর হাতে তুলে দিতে ভূমিকা রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ও সম্পদ হারিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত প্রায় ৫৫ বছরে এ অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এদিকে বিষয়টির আর্থিক, প্রশাসনিক ও আইনগত দিক খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Posted ৯:২৪ পিএম | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity