নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
রাজস্ব ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক লেনদেনকে আরও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) মার্চেন্ট হিসাব এবং নতুন ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ও ব্যাংকের চলতি হিসাব খোলার জন্য ভ্যাট নিবন্ধন অপরিহার্য হয়ে উঠবে। এনবিআরের মতে, এর মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক কর ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান পর্যায়ে নতুন করে কর বা ভ্যাটের বোঝা চাপানোর উদ্দেশ্য নয়; বরং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি এবং করজাল সম্প্রসারণই মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে সীমিত পরিসরে কর আরোপের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ লাখ ৯২ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে এই সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে আশা করছে সংস্থাটি। তাদের ধারণা, অল্প সময়ের মধ্যেই ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। সেই প্রেক্ষাপটে গ্রামাঞ্চল ও তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসাগুলোকেও ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে দেশে মোট এমএফএস হিসাবের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) হিসাবে সক্রিয় হিসাব রয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৭১ লাখ। এর মধ্যে মার্চেন্ট হিসাবের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৫১ হাজার।
তবে প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট খাতে। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডিজিটাল লেনদেন এখনও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নগদ লেনদেনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এ অবস্থায় নতুন শর্ত ও নিবন্ধন বাধ্যবাধকতা আরোপ করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, করের আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে প্রণোদনা ও উৎসাহমূলক নীতিও প্রয়োজন। অন্যথায় ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া হিসাব পরিচালনার সুযোগ দীর্ঘমেয়াদে রাখা যৌক্তিক নয়। সে কারণে নতুন হিসাবের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসায়িক হিসাবগুলোকেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ট্রেড লাইসেন্সধারী দোকানের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এছাড়া সেবা খাতের বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এখনও ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ আনুষ্ঠানিক রাজস্ব কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
Posted ১২:৫৮ পিএম | রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity