প্রতিদিনের অর্থনীতি | শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে দেশটি ‘মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ’ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময়সহ দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ওপর জোর দিয়েছে।
ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী সম্মেলনে সংস্থাটির ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও আলোচকরা অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সংস্কার, বিনিয়োগ সহায়তা চুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ভর্তুকি সীমিতকরণ এবং ই-কমার্স মোরাটোরিয়ামের ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় রয়েছে।
এলডিসি ইস্যুতে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো উত্তরণের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে।
তবে সরকার ইতোমধ্যে -এর কাছে তিন বছরের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণ দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশ বর্তমানে এলডিসিভিত্তিক বাণিজ্য সুবিধা ও বিশেষ ও পৃথক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। এসব সুবিধা কমে গেলে রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এ কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাঠামোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, সময় বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
সংস্কার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বলেছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার যেকোনো সংস্কার প্রক্রিয়া হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং সংস্থার মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতি গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পূর্ণাঙ্গ দ্বিস্তরীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ। বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, একটি স্বাধীন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা ছাড়া নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন প্রস্তাবিত কিছু সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বৈষম্যহীনতার নীতি দুর্বল করে শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোর প্রভাব বাড়াতে পারে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সংস্থাটির মহাপরিচালক বলেন, সদস্য দেশগুলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা সংস্থাটিকে এগিয়ে নিতে চায়, নাকি দুর্বল করে দিতে চায়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ক্যামেরুনের বাণিজ্যমন্ত্রী লুক-ম্যাগলোয়ার এমবার্গা আটাঙ্গানা। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন আগামীকাল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
Posted ৪:১০ পিএম | শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity