নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
রপ্তানি আয়ে পতন এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির দ্বৈত চাপে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের উচ্চমূল্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যালান্স অব পেমেন্টস (বিওপি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে। এক মাস আগেও, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ফলে মার্চ মাসেই ব্যবধান বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।
এক বছর আগের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে বছরে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের জুলাই-মার্চে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, একই সময়ে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।
তবে বৈদেশিক লেনদেনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে প্রবাসী আয়। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ভারসাম্যে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
Posted ১১:০৯ এএম | বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity