নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে সহায়তা দিতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ৫ হাজার কোটি টাকার গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পের জন্য পৃথকভাবে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের টেকসই রূপান্তরে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়ন খাতেও অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পভেদে ঋণের মেয়াদ হবে ২ থেকে ৫ বছর। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধাও রাখা হয়েছে। একজন উদ্যোক্তা এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। আমদানি বা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মোট ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করা যাবে।
তবে ঋণ পেতে কিছু শর্তও বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রকল্পে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের অন্তত ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস—যেমন সৌরবিদ্যুৎ—থেকে সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংক এই তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করতে পারবে। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। যেসব ব্যাংক ইতোমধ্যে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডে অংশগ্রহণ চুক্তি করেছে, তাদের নতুন করে চুক্তি করতে হবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ গ্রামীণ শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
Posted ৮:৪৫ পিএম | সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity