নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর করের হার দ্বিগুণ করার প্রস্তাব এসেছে। এতে সঞ্চয়পত্রনির্ভর লাখো পরিবার, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং পেনশনভোগীদের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত অর্থবিল অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অগ্রিম করের হার বর্তমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মুনাফা উত্তোলনের সময় আগের তুলনায় বেশি অর্থ কর হিসেবে কেটে রাখা হবে।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয় এবং সেটিই চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে নতুন ব্যবস্থায় কেটে রাখা অর্থকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে করদাতাদের পরবর্তীতে আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে প্রকৃত কর দায় সমন্বয় করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, গৃহিণী, বিধবা নারী এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। তাঁদের অনেকেই মাসিক ব্যয় নির্বাহের জন্য মুনাফার অর্থের ওপর নির্ভরশীল। করের হার বৃদ্ধি পেলে তাঁদের হাতে পৌঁছানো অর্থের পরিমাণ কমে যাবে। যেমন, পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়। প্রতি এক লাখ টাকার বিপরীতে মাসিক মুনাফা আসে প্রায় ৯৯৪ টাকা। বিদ্যমান ব্যবস্থায় ৫ শতাংশ কর কাটার পর বিনিয়োগকারীর হাতে প্রায় ৯৪৫ টাকা থাকে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ১০ শতাংশ কর কেটে রাখার কারণে হাতে পাওয়া অর্থ ৯০০ টাকার নিচে নেমে আসবে।
তবে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জমান মজুমদার বলেছেন, সঞ্চয়পত্র বিষয়ে এবারের বাজেটে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, অর্থবিল ২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইনের ১৬৩ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা অর্থকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে। পরবর্তীতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যদি দেখা যায়, কাটা করের পরিমাণ প্রকৃত কর দায়ের চেয়ে বেশি হয়েছে, তাহলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এক্ষেত্রে করদাতাকে ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ আবেদন করতে হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ১২০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রসহ চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ ও ধরনের ভিত্তিতে বর্তমানে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা প্রদান করা হচ্ছে।
Posted ১২:১০ পিএম | শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity