নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে করছাড় দেওয়া হলেও এর সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির দাবি, কর কমানোর পরও খুচরা বাজারে চাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন মসলার দাম কমেনি; বরং কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এ অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম বাজেটে ৬৩টি নিত্যপণ্যে নতুন করে কর আরোপ করা হয়নি। বরং ধান, চাল, গম, আটা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ক্যাবের দাবি, এসব পণ্যে কর কমানোর উদ্দেশ্য ছিল আমদানি ও বাজারজাতকরণ ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে খুচরা বাজারে দাম কমানো। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং চাল ও সয়াবিন তেলসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজেট ঘোষণার পর ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বেশি দামে আমদানি করা পণ্যের মজুত থাকার কথা বলছে। তাদের দাবি, পরবর্তী চালান এলে দাম কমতে পারে। তবে ক্যাবের ভাষ্য, যেসব পণ্যে শুল্ক কমানো হয়েছে, সেগুলোর দামও বাজারে বাড়ানো হচ্ছে। এতে বাজারে অস্থিতিশীলতা কাটছে না।
বিবৃতিতে বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ক্যাবের সহসভাপতির অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বাজার তদারকিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্যাব জানায়, বাজেটে আমদানি করা সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এর সুফল এখনো খুচরা বাজারে পৌঁছেনি। দারুচিনি, লবঙ্গ, জিরা, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামসহ বিভিন্ন মসলার দাম উল্টো বেড়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার কর কমানোর ফলে নিত্যপণ্যের দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চালের দাম বাড়তে থাকায় ভোক্তাদের চাপ বাড়ছে।
Posted ১:৪৫ পিএম | রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity