নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
ভ্যাট ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও হয়রানিমুক্ত করতে বড় ধরনের ডিজিটাল সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন চালু হওয়া ‘অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ায় দেশের ৬০০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। এখন আর কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান বাছাই করতে পারবেন না; বরং তথ্যভিত্তিক সফটওয়্যার বিশ্লেষণের মাধ্যমেই ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত হচ্ছে।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪০৫টি উৎপাদনকারী, ৯৮টি সেবাদানকারী, ৬৫টি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং ৩২টি আমদানিকারক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি), পয়েন্ট অব সেল (পস) মেশিন এবং অন্যান্য সফটওয়্যার থেকে বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি এনবিআরের সার্ভারে জমা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অনলাইনে জমা দেওয়া ভ্যাট রিটার্ন ও আমদানিসংক্রান্ত তথ্য।
এই সমন্বিত ডেটাবেইস বিশ্লেষণ করে বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ও আউটপুট ভ্যাটের মধ্যে কোনো গরমিল আছে কি না তা শনাক্ত করা হয়। অস্বাভাবিক ইনপুট ভ্যাট দাবি, হঠাৎ বিক্রয় কমে যাওয়া বা পূর্ববর্তী তথ্যের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ই-ভ্যাট সিস্টেমে যুক্ত এই মডিউলে ২০টি নির্দিষ্ট ঝুঁকির সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হয় কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কি না বা তথ্য গোপন করছে কি না। ফলে অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়া হয়েছে আরও বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ।
এ বিষয়ে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বলেন, করদাতা ও সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অডিট ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অযাচিত হয়রানি ও পক্ষপাত কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনবিআর মনে করছে, এই ডিজিটাল পদ্ধতি ভ্যাট প্রশাসনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমবে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
অডিট শেষে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি এই মডিউলের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ঝুঁকি নির্ধারণের সূচক আরও উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, দক্ষ ও করদাতাবান্ধব করে তুলতে এনবিআর এ ধরনের অটোমেশন কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।
Posted ১:৪১ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity