
| বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 389 বার পঠিত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়িয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাসের জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের ভোগব্যয় ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসায় অর্থনীতির গতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে, যা শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে। এসব প্রত্যাশার ভিত্তিতেই আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।
তবে ইতিবাচক পূর্বাভাসের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অবস্থানে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করায় ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ভুটানে, যা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের পর মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধি বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে। বিবিএসের তথ্যমতে, এই সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ২০২৬ সালে কিছুটা ধীরগতিতে চলতে পারে এবং সে বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী এক দশকে বিশ্বে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলেছে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ও মানব পুঁজি শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

Posted ১০:২৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


